• Mon. May 16th, 2022

‘রানিমা’র অনুপস্থিতির কারণেই কি রেটিং চার্টে পিছিয়ে ‘রাণী রাসমণি’?

‘রানিমা’-র জীবদ্দশা সমাপ্ত হয়েছে। টানা চার বছর রাসমণিকে নিজের মধ্যে ধারণের পর জি বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘রাণী রাসমণি’ থেকে দিতিপ্রিয়া রায় বিদায় নিয়েছেন। পাশাপাশি, সরে গিয়েছে রানির সঙ্গে থাকা ভূপাল-সহ একাধিক চরিত্রও চিত্রনাট্যের খাতিরে। ধারাবাহিকের আগামী আকর্ষণ, গদাধরের শ্রী রামকৃষ্ণ হয়ে ওঠা। তাঁর জীবনে মা সারদার উপস্থিতি। আপাতত ইতিহাস মেনে তারই প্রস্তুতি পর্ব দেখানো হচ্ছে পর্দায়। তাতে যেমন ধারাবাহিকের মোড় আবারও ঘুরতে চলেছে তেমনি ঘটেছে একটি অঘটন। রাসমণির মৃত্যুর পরেই আগের সপ্তাহে ধারাবাহিকটি ‘সেরা পাঁচ’ থেকে ছিটকে গিয়েছিল। চলতি সপ্তাহে সেটি পিছিয়ে এখন নবম স্থানে।

এই পিছিয়ে পড়া কেন? দর্শক কি মেনে নিতে পারছে না দিতিপ্রিয়ার অনুপস্থিতি?

ছোট পর্দার ‘রানিমা’ আপাতত বড় পর্দা নিয়ে ব্যস্ত। একাধিক ছবি তাঁর হাতে এখন। বদলে বিষয়টির উপর আলোকপাত করেছেন ধারাবাহিকের কার্যনির্বাহী প্রযোজক অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘গত চার বছর ধরে একটি মেয়ে ছোট থেকে বড় হয়েছে এই ধারাবাহিকের ছত্রছায়ায়। পাশাপাশি, সে রানিমার প্রতিটি ধাপ নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে পর্দায়। এই ধারাবাহিক যেমন দিতিপ্রিয়ার অভিনয়ে সমৃদ্ধ তেমনই ধারাবাহিক তাঁকে উপহার দিয়েছে অজস্র অনুরাগী। দর্শক তাই দিতিপ্রিয়ার অভাব অনুভব করছেন এখন।’

অনির্বাণের যুক্তি অনুযায়ী, রানিমা নেই মানে একটা বড় অধ্যায় শেষ। পরবর্তী অধ্যায়ে থাকবে শ্রী রামকৃষ্ণ, তাঁর লীলা এবং মা সারদার উপস্থিতি। সেই পর্বের প্রস্তুতি চলছে এখন। ইতিহাস মেনে সাধক তোতাপুরী, যোগিনীর কাছে গদাধরের দীক্ষা, সাধনার মতো নানা দিক দেখা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই পর্ব তথ্য নির্ভর অনেকটাই। রানিমার জীবনের মতো ততটাও ঘটনাবহুল নয়। সম্ভবত সেই কারণেই সাময়িক মুখ ফিরিয়েছেন দর্শকেরা ধারাবাহিকের থেকে। অনির্বাণের আরও দাবি, ‘মা সারদা’ ওরফে সন্দীপ্তা সেন ধারাবাহিকে পা রাখলেই পূরণ হবে এই শূন্যতা।

তা হলে কি সন্দীপ্তা দিতিপ্রিয়ার বিকল্প হতে পারে? অনির্বাণের দাবি, সন্দীপ্তা সেন ছোট-বড় পর্দা, ওয়েব সিরিজ মিলিয়ে যথেষ্ট জনপ্রিয় মুখ। তাঁর অভিনয় দর্শকদের বসিয়ে রাখে। তাই তাঁর আশা, সাময়িক খরা কাটিয়ে ‘রাণী রাসমণি’ খুব শীঘ্রই ফের জনপ্রিয়তায় ভাসতে চলেছে।

‘মা সারদা’ নলবনে শ্যুটে ব্যস্ত। তাঁর প্রতি টিম ‘রাণী রাসমণি’-র এই আস্থার কথা শুনে অভিনেত্রী জানান, ‘আমার প্রতি আস্থা আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। যে কোনও চরিত্রকেই রক্ত-মাংসের করে তুলতে আমি আমার ১০০ শতাংশ নিংড়ে দিই। এখানেও তার ব্যতিক্রম হবে না আমার। বাকিটা বলবেন দর্শকেরা।’ আস্থা, ভরসা কি আগাম বাড়তি চাপ তৈরি করে দিচ্ছে? মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা সন্দীপ্তার মতে, বাড়তি চাপ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ভাল কম, খারাপই করে বেশি। তাই বরাবরই চাপমুক্ত থেকে অভিনয়ে বিশ্বাসী তিনি।